লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

লেখক

Md. Ashraful Alam Shemul
প্রকাশিত
২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
জ্যোতির্বিজ্ঞান

লীপ ইয়ার (অধিবর্ষ)

আজ ২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০! অন্যান্য বছরের চেয়ে এই বছরটা একটু আলাদাই। কেননা এবছর ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮ দিন নয়, ২৯ দিন! যাইহোক, এটা আপাতত সবাই জানেন, কিন্তু জানেন না যে, কেন এই অতিরিক্ত ১ দিন। তো চলুন, জেনে নেয়া যাক। মূলত আমাদের যে বছর হিসাব করা হয় তা কিন্তু এমনি এমনিই না। এগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে।

Md. Ashraful Alam Shemul২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
লীপ ইয়ার (অধিবর্ষ)

আজ ২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০! অন্যান্য বছরের চেয়ে এই বছরটা একটু আলাদাই। কেননা এবছর ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮ দিন নয়, ২৯ দিন! যাইহোক, এটা আপাতত সবাই জানেন, কিন্তু জানেন না যে, কেন এই অতিরিক্ত ১ দিন। তো চলুন, জেনে নেয়া যাক।

মূলত আমাদের যে বছর হিসাব করা হয় তা কিন্তু এমনি এমনিই না। এগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। মূলত পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে একবার ঘুরে আসতে প্রায় ৩৬৫ দিন সময় নেয়। তাই ৩৬৫ = ১ বছর। কিন্তু এখানে কিছু সমস্যা আছে।

ছোটবেলায় বিজ্ঞান বইয়ে সবাইই নিশ্চয়ই পড়েছেন, সূর্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘুরতে প্রায় ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড সময় নেয়। প্রতি বছর এই যে বাড়তি ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বাদ পড়ে যাচ্ছে সেটার কি হবে? তাই বিজ্ঞানীরা এটাকে অ্যাডজাস্ট করলেন এই অধিবর্ষ উপায় আবিষ্কারের মাধ্যমে। কিভাবে?

এই বাড়তি ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড যেহেতু ৬ ঘন্টার কাছাকাছি, তাই এটাকে ৬ ঘন্টা ধরলে প্রতি ৪ বছরে ৬×৪ = ২৪ ঘন্টা পাওয়া যায়। সংখ্যাটা চেনা চেনা লাগছে কি? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। এটি ১ দিনের সমান। তাই প্রতি ৪ বছরে ১ দিন করে বাড়ানো হয়। যেহেতু ফেব্রুয়ারি মাস তুলনামূলকভাবে ছোট সেহেতু এই মাসেই দিনটি যুক্ত হয়ে ২৯ দিন হয়।

কিন্তু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডকে ৬ ঘন্টা ধরলাম। তাহলে প্রতি বছর ১১ মিনিট ১৩ সেকেন্ড অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে না? তাহলে ১০০ বছরে অতিরিক্ত হচ্ছে ১১২২ মিনিট বা ১৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ড। যা কিনা ২৪ ঘন্টা বা ১ দিনের কাছাকাছি। ফলশ্রুতিতে প্রতি ১০০ বছরে অতিরিক্ত এই ১ দিন বাদ দেয়া হয়। তাই প্রতি ১০০ বছর পর লীপ ইয়ার বা অধিবর্ষ হয় না।

কিন্তু এখানেই একটা ফাঁকি রয়ে গেল। আমরা ১৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডকে ২৪ ঘন্টা ধরে প্রতি ১০০ বছরে ১ দিন কমিয়ে দিয়ে কিন্তু বিরাট পাপ করে ফেলছি। কেননা প্রায় ৫ ঘন্টা ১৮ মিনিট অতিরিক্ত রয়ে যাচ্ছে। এখন এই ৫ ঘন্টা ১৮ মিনিটকে ৪ দিয়ে গুণ করলে পাই ২১ ঘন্টা ১২ মিনিট। এখন প্রতি ৪০০ বছরে এই অতিরিক্ত ২১ ঘন্টা ১২ মিনিট আবার ২৪ ঘন্টার কাছাকাছি হওয়ায় প্রতি ৪০০ বছর পর আবার অতিরিক্ত ১ দিন অধিবর্ষ নিতে হয়।

এখন আপনি বলবেন, এখানে ২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট বেশি হয়ে গেছে না? থাক ভাই, আর না আগাই। বোঝেনই তো, আমি অংকে কাঁচা 😛 তাই আর হিসাবে গেলে আমার মাথা নষ্ট হয়ে যাবে এ যাত্রায়। জানি, হিসাব অনেকের মাথার উপর দিয়ে গেছে। তাই চলুন, একটু সামারাইজ করা যাক।

১. প্রতি ৪ বছরে ১ দিন অতিরিক্ত নেয়া হয়। যাকে লীপ ইয়ার বা অধিবর্ষ বলা হয়। সাধারণত ৪ দ্বারা বিভাজ্য সালগুলো অধিবর্ষ। পরবর্তী অধিবর্ষ ২০২৪ সালে। ২. প্রতি ১০০ বছরে ১ টি অধিবর্ষ বাতিল হয়। সাধারণত ১০০ দ্বারা বিভাজ্য সালগুলো অধিবর্ষ পায় না। ২১০০ সাল অধিবর্ষ হবে না। ৩. প্রতি ৪০০ বছরে ১ টি অধিবর্ষ যোগ হবে। ৪০০ দ্বারা বিভাজ্য সালগুলো অধিবর্ষ। ২৪০০ সাল অধিবর্ষ হবে।

আজ এ পর্যন্তই। কোন কিছু না বুঝলে কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ, কষ্ট করে পড়ার জন্য।

সম্পর্কিত লেখা

হোয়াইট হোল (শ্বেত বিবর)
জ্যোতির্বিজ্ঞান

হোয়াইট হোল (শ্বেত বিবর)

গত দুই পর্বে আমরা কৃষ্ণ বিবর বা ব্ল্যাক হোল সম্মন্ধে পড়েছিলাম। এবার আমরা জানবো শ্বেত বিবর বা হোয়াইট হোল (White Hole) নিয়ে। নাম দেখেই নিশ্চয়ই বলে দেয়া যায়, হোয়াইট হোল হবে ব্ল্যাক হোলের একদম উল্টো, তাইনা? আসলেই তাই। ব্ল্যাক হোলের যে ধারণা, সেই ধারণা থেকেই জন্ম নিয়েছে হোয়াইট হোলের ধারণাটি। ব্যাক হোলের ক্ষেত্রে আমরা দেখি,

Md. Ashraful Alam Shemul৬ এপ্রিল, ২০২০

ব্ল্যাক হোল (কৃষ্ণ বিবর) – পর্ব ২
জ্যোতির্বিজ্ঞান

ব্ল্যাক হোল (কৃষ্ণ বিবর) – পর্ব ২

গত পর্বে আমরা কৃষ্ণ বিহ্বর বা ব্ল্যাক হোলের (Black Hole) কিছু বেসিক বিষয় জেনেছিলাম। এবার আমরা ভেতরের দিকে প্রবেশ করব এবং অনেক গাণিতিক আলোচনার সাথে পরিচিত হব। যারা প্রথম পর্ব পড়েন নি, তাদের জন্য প্রথম পর্ব পড়ে আসা বাধ্যতামূলক। প্রথম পর্বের লিংক নীচে দিয়ে দিচ্ছি পড়ুন: ব্ল্যাক হোল (কৃষ্ণ বিবর) – পর্ব ১ তো শুরু

Md. Ashraful Alam Shemul৫ এপ্রিল, ২০২০

ব্ল্যাক হোল (কৃষ্ণ বিবর) – পর্ব ১
জ্যোতির্বিজ্ঞান

ব্ল্যাক হোল (কৃষ্ণ বিবর) – পর্ব ১

ব্ল্যাক হোল (Black Hole) নিয়ে আগ্রহ নেই এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া আসলে দুষ্কর। তবে বিষয়টা এতটা ছোট নয় যে একটি আর্টিকল লিখে তা জানিয়ে দেয়া সম্ভব। আর, এটার গাণিতিক বিশ্লেষণে গেলে ব্যাপারটা যে কতটা বড় হবে, তা বলাই বাহুল্য। তো শুরু করা যাক, কৃষ্ণ বিবরের বেসিক আলোচনা। ব্ল্যাক হোল সম্মন্ধে শুরুতে বেসিক ধারণা নেয়া যাক।

Md. Ashraful Alam Shemul৪ এপ্রিল, ২০২০